রাইট অনারেবল হ্যাজেল ব্লেয়ার্স
বাংলাদেশে দুই দিনের সফর শেষে যুক্তরাজ্যের কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রী রাইট অনারেবল হ্যাজেল ব্লেয়ার্স, এমপি বাংলাদেশের সকল পক্ষকে গঠনমুলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে ২০০৮ সালে মসৃণভাবে নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থায় উত্তরণে এবং দীর্ঘস্থায়ী গণতন্ত্রের লক্ষ্যে আরও সংস্কারের পথে অগ্রসর হবার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
মিজ ব্লেয়াস বলেন “ বাংলাদেশের পরম লক্ষ্য হচ্ছে টেকসই গণতন্ত্র। এটা গুরুত্বপূর্ণ এবং এর দ্বারা ভবিষ্যত উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার ভিত্তি রচিত হবে। এটা অর্জনের জন্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখা ও সে প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার প্রয়োজন রয়েছে যার দ্বারা নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থায় উত্তরণ সম্ভবপর হবে। ২০০৮ সালে সফল নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন সকল পক্ষের অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্দেশ্য, ইতিবাচক মনোভাব এবং ইচ্ছাশক্তি- যার ফলে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে সকলে প্রয়োজনমত ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তত থাকবে”।
তিনি আরও বলেন “ গণতন্ত্র টেকসই করার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। ব্যক্তির আসা-যাওয়া চলতে পারে কিন্তু প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী হওয়া প্রয়োজন। আমরা চাই এখনও পর্যন্ত যে সব সংস্কার অর্জিত হয়েছে পরবর্তী সরকার তা বজায় রাখুক”।
ব্রিটিশ মন্ত্রী তাঁর সিলেট সফর এবং যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশীদের জন্য ব্রিটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটির ভুমিকা ও অবদান বিষয়ে আলোকপাত করেন।
“এই কমিউনিটিগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে সাফল্য ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করছে এবং যুক্তরাজ্যের জীবনের সবক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে। একজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত ও ব্রিটিশ নাগরিক হবার মধ্যে কোন বিরোধ নেই। আমি মনে করি পুরনো এবং অযথার্থ সেই একপেশে ধারণা পুনর্মুল্যায়ন করা প্রয়োজন যেখানে ব্রিটিশ বাংলাদেশীদের যুক্তরাজ্যের মুলধারার সমাজে প্রান্তিক গোষ্ঠী হিসেবে তুলে ধরা হয়। তারা কাউকে সাহায্য করে না, তারা উচ্চাকাঙ্খা বিসর্জন দেয় এবং বিভাজন ও সংকীর্ণতার জন্ম দেয়। কোন কমিউনিটির নিজেকে রেশম পোকার মত গুটিয়ে রাখার চিন্তা করা উচিত নয়। এই কমিউনিটিগুলির সাফল্য মনোযোগ ও সম্মান দাবী করে। সফল ও আত্মবিশ্বাসী ব্রিটিশ বাংলাদেশীরা উভয় দেশের এবং যৌথ স্বার্থের বিষয়ে যেমন উন্নয়ন, বিনিয়োগ, গণতন্ত্র ও চরমপন্থী দমনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি অবদান রাখতে সক্ষম ”।
বাংলাদেশে তাঁর প্রথম সফরকালে মিজ ব্লেয়াস মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, এবং ঢাকা ও সিলেটে সুশীল সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়াও তিনি ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলাপমেন্ট এর অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও প্রান্তিক নারীদের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা বিষয়ক দুটি প্রকল্প পরিদর্শন করেন।
যুক্তরাজ্যের কোন মন্ত্রীর গত সাত মাসে এটি পঞ্চম সফর এবং এর দ্বারা যুক্তরাজ্য কর্তৃক বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে যে গুরুত্ব দেয়া হয় এবং এ সম্পর্কের যে উচ্চতা তাকেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
সম্পাদকের জন্য নোট :
- হ্যাজেল ব্লেয়াস ২০০৭ সালের জুন মাসে কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী নিযুক্ত হন। এর আগে ২০০৬ সালের মে মাস হতে তিনি দপ্তর বিহীন মন্ত্রী ও লেবার পার্টির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরও আগে তিনি স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পুলিশ, নিরাপত্তা ও কমিউনিটি নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এ সময়ে তার দায়িত্বের আওতাধীন আরও ছিল সন্ত্রাসবাদ দমন, অপরাধ হ্রাস ও সক্রিয় কমিউনিটিগুলি। এর পূর্বে তিনি জনস্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
- কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্ব হচ্ছে সমৃদ্ধিশালী,টেকসই, উদ্যমী কমিউনিটি নির্মাণের লক্ষ্যে নীতি নির্ধারণ, যার দ্বারা সকলের জীবনমান উন্নত হবে; যার মধ্যে রয়েছে আবাসন, জনসেবা এবং প্রকাশ্য স্থানসমূহের উন্নতি, সমাজবিরোধী ও চরমপন্থী কার্যকলাপ দমন, এবং ইংল্যান্ডে জাতিগত সমতা ও একাত্ববোধ সম্পর্কিত বিষয়াদি।
- হ্যাজেল ব্লেয়ার্স ১৯৯৭ সালের মে মাসে স্যালফোর্ড এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য নির্বাচনের পূর্বে তিন ম্যাঞ্চেষ্টার সিটি কাউন্সিলের প্রধান কৌসুলী ছিলেন। ১৯৮১ হতে ১৯৮৩ পর্যন্ত রোজেনডেল কাউন্সিলে এবং ১৯৮৩ হতে ১৯৮৫ পর্যন্ত ওয়াইগান কাউন্সিলে কৌসুলী হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮৪ হতে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি স্যালফোর্ডের সিটি কাউন্সিলর ছিলেন এবং ১৯৯২ হতে ১৯৯৬ পর্যন্ত স্যালফোর্ড কমিউনিটি স্বাস্থ্য কাউন্সিলের প্রধান ছিলেন। মিজ ব্লেয়ার্স ১৯৫৬ সালের ১৪ মে তারিখে স্যালফোর্ডে জন্মগ্রহণ করেন এবং ওয়ার্ডলি গ্রামার স্কুল, একলেস সিক্সথ ফর্ম কলেজ, ট্রেন্ট পলিটেকনিক এবং চেষ্টার কলেজ অব ল'তে শিক্ষা লাভ করেন ( যেখান থেকে তিনি বিএ অনার্স, ল’ ডিগ্রি লাভ করেন)। হ্যাজেল ব্লেয়ার্স বিবাহিত এবং স্যালফোর্ডে বসবাস করেন। তাঁর শখের মধ্যে রয়েছে নাচ, নিজের মোটর বাইক চালানো এবং বাগান করা।